হেঁচকি থামানোর উপায়

স্বাস্থ্য ও মনোজগৎ

আমাদের মাঝেমাঝেই হেঁচকির বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কোনভাবেই তা থামানো যায় না; ব্যাপারটা এমন যেন যত চাচ্ছি হেঁচকি না আসুক বা থামাতে, ততই যেন বারেবারে আসে। খেয়াল করে দেখবেন, দুই হেঁচকির মধ্যবর্তী সময় আবার সমান হয়। শ্বাস গ্রহণের প্রধান পেশী ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছেদার অনৈচ্ছিক সংকোচনের ফলে ঝাঁকুনির   সৃষ্টি হয় যে কারণে স্বরতন্ত্র বা ভোকাল কর্ডের ছিদ্র কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে ‘হিক’ করে একটা শব্দ হয় যাকে আমরা হেঁচকি বা হিক্কা বলি। হেঁচকি আমাদের শরীরের একটি অনৈচ্ছিক ক্রিয়া যা অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ, কার্বনেট সমৃদ্ধ কোমল পানীয় পান থেকে শুরু করে চুইংগাম চাবানোর সময় বাতাস ঢুকে যাওয়া পর্যন্ত যেকোন কারণে আসতে পারে। হেঁচকির কারণ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা ধারণা পেলেও হেঁচকি থামানোর সুনির্দিষ্ট উপায় বা কৌশল বের করতে এখনও ব্যর্থ। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হেঁচকি থামানো যায়, তবে সেগুলো আবার সবক্ষেত্রে সবার জন্য কাজ করে না। এরকম কিছু প্রক্রিয়া নিয়ে আজকে কথা বলব।

এক চামচ চিনি অথবা টক খান

হেঁচকি আসলে এক চামচ চিনি মুখে পুরে দিন, তারপর সেগুলো আস্তে আস্তে গিলতে চেষ্টা করুন। চিনির দানাগুলো আমাদের শরীরের ভ্যাগাস নার্ভকে (গলার পেশী ও স্বরযন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে) উত্তেজিত করে। গবেষণা করে দেখা গেছে ২০ জন রোগীর মধ্যে ১৯ জন রোগীর হেঁচকি এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভালো হয়ে যায়। আরেকটি গবেষণায় অবশ্য টক জাতীয় জিনিস যেমন লেবুর রস বা ভিনেগার এক ফোঁটা জিহবায় দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  Image Source: brightsite.me
 

এক চামচ মধু খান

গরম পানিতে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেয়ে দেখতে পারেন কারণ মধুমিশ্রিত পানি গলধ:করণ করার সময় আপনার স্বাভাবিক নি:শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়। পান করার পরে পুনরায় আপনার স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ শুরু হয় এতে হেঁচকি বন্ধ হয়ে য়ায়। আবার মধু যেহেতু মানসিক স্থৈর্য আনয়নে সহায়তা করে যা আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যার ফলস্বরূপ হেঁচকি বন্ধ হয়ে য়ায় – একারণও অনেকে ব্যাখ্যা করে। এছাড়া মধু জীবাণুনাশক ও কফ পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে।

কাগজের ব্যাগে শ্বাস-প্রশ্বাস নেন

একটি কাগজের ব্যাগে মুখ ঢুকিয়ে নি:শ্বাস-প্রশ্বাস নেন। এতে করে আপনার শরীরে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ঘাটতি দেখা দিবে তখন অক্সিজেন গ্রহণের জন্য ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছেদা আপনা আপনি সংকোচিত হয়ে ঝাঁকুনি  থামিয়ে দিবে এবং আপনার হেঁচকি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে কাগজের ব্যাগে মুখ ঢুকিয়ে নি:শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার সময় মাথা হালকা হয়ে আসলে সেটা বন্ধ করে দিন। যদিও এই পদ্ধতিতে হেঁচকি বন্ধ হওয়ার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

Image Source: brightsite.me

ঠান্ডা পানি খান অথবা কুলকুচা করেন

বিশুদ্ধ ঠান্ডা পানি পান করে বা কুলকুচা করেও আপনি হেঁচকি বন্ধ করতে পারেন। আস্তে আস্তে পানি গিলেন বা অল্প পানি দিয়ে কুলকুচা করেন দেখবেন ফল পাবেন। কারণ পানি গিললে বা কুলকুচা করলে ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছেদা সংকোচন হয়। 

হাটু জড়িয়ে ধরে বসুন

বিছানায় বা চেয়ারে বসে হাটু দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরুন এতে করে আপনার বুকের উপর একটা চাপ পড়বে যা ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছেদার ঝাঁকুনি বন্ধ করতে সহায়তা করবে এবং ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছেদার ঝাঁকুনি বন্ধ হলেই আর হেঁচকি আসবে না।

Image Source: brightsite.me

জিহবা বের করুন

আস্তে আস্তে মুখের ভিতর থেকে জিহবা বের করে যতক্ষণ সম্ভব ধরে রাখার চেষ্টা করুন যা ভ্যাগাস নার্ভকে উত্তেজিত করে ও ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছেদার ঝাঁকুনি বন্ধ করতে সাহায্য করে।এছাড়া ঘাড়ের পেছনের মাংসপেশী আস্তে আস্তে মর্দন করে, অনেকক্ষণ শ্বাস ধরে রেখে, নাক বন্ধ করে বাতাস বের করার চেষ্টা করে ফল পেতে পারেন।