হাঁচি নিয়ে যত কথা !

স্বাস্থ্য ও মনোজগৎ

আমরা সবাই হাঁচি দেই, কিন্তু বিভিন্ন জন বিভিন্ন কারণে হাঁচি দিয়ে থাকি। এটা মানুষের শরীরের অনিচ্ছাকৃত কর্মকান্ডের অংশ। মানুষের ফুসফুস থেকে নাক ও মুখ দিয়ে হঠাৎ করে জোরে বাতাস বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে হাঁচি বলে। যদিও জনসম্মুখে হাঁচি দিলে আমাদের লজ্জায় পড়তে হয় তবুও এটার শারীরিক সুবিধা আছে। হাঁচির প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো নাকের (Mucosa) শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী থেকে  ধূলিকণা বা ক্ষতিকারক জীবানু বের করে দেওয়া।

সাধারণত নাকের লোমগলো যখন বাইরের কোন  ধূলিকণা আটকাতে ব্যর্থ হয় এবং তা গিয়ে নাকের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীতে প্রবেশ করে তখন তা স্নায়ুর মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্কে বার্তা পাঠায় এবং  আমাদের হাঁচি আসে। এছাড়া নাকে কোন প্রকার ক্ষত বা অ্যালার্জির কারণে হাঁচি আসতে পারে। ফুসফুস থেকে বাতাস বের হবার পথ খুবই সরু হওয়ায় তা একসাথে নাক ও মুখ দিয়ে বের হয়। মানুষ ঘুমের মধ্যে কখনও হাঁচি দেয় না কারণ ঘুমন্ত অবস্থায় হাঁচির জন্য মস্তিষ্ক বার্তা পাঠাতে পারে না। হাঁচির সময় মানুষের হৃদপিন্ডের স্পন্দনও বন্ধ হয় না। তবে হাঁচি দেওয়ার সময় আমাদের চোখ বন্ধ হয়ে আসে, তবে আপনি চেষ্টা করে তা খোলা রাখতে পারবেন।    

আপনি যদি রোদে বের হওয়ার সাথে সাথে বা উজ্জ্বল আলোতে আসলে হাঁচি দেন তবে সেটা কিন্তু কোন অ্যালার্জির কারণে না। বরং আলোতে আসলে মস্তিষ্ক চোখের তারা (Pupil) সংকোচনের নির্দেশনা পাঠায় এবং সেটা কোন কারণে পথ পরিবর্তন করে হাঁচির বার্তা পাঠিয়ে দেয়ার ফলে হাঁচি আসে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করে। বিজ্ঞানীদের হিসাব মতে, পৃথিবীর প্রায় ১৮ থেকে ৩৫ শতাংশ মানুষ আলোতে আসলে হাঁচি দেয়। শুধুমাত্র অতি আলোতে আসলেই হাঁচি আসে না, ঠান্ডা লাগলে, চোখের ভ্রুর লোম তুলতে গেলে বা কান চুলকাতে গেলেও আমাদের হাঁচি আসতে পারে।

একসাথে দুই বা তার অধিক সময় হাঁচি দেওয়াটা স্বাভাবিক কারণ নাকের ভিতর থেকে ক্ষতিকর কণা যতক্ষণ পর্যন্ত না বের হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি হাঁচি দিতে থাকবেন। হাঁচির কারণ বা মানুষে মানুষে পার্থক্যের উপর নির্ভর করে মানুষ একাধারে কয়বার হাঁচি দিবে।

মানুষই শুধু হাঁচি দেয় না, অন্যান্য পশুপাখি যেমন বিড়াল, কুকুর, গুইসাপ ও মুরগি হাঁচি দিয়ে থাকে। কিছু কিছু প্রাণী যোগাযোগের ভাষা হিসাবেও হাঁচি ব্যবহার করে থাকে। যেমন আফ্রিকা অঞ্চলের বন্য কুকুর কোন ব্যাপারে সমর্থন জানাতে বা একসাথে শিকারে যাওয়ার সময় হাঁচি দেয়।

হাঁচি আটকালে বিভিন্ন সমস্যা হতে পাড়ে যেমন কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, মাথা ঘুরাতে পারে, ডায়াফ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, চোখের রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ও মস্তিষ্কের রক্তনালীও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সুতরাং হাঁচি আসলে তা বের হতে দেওয়াই শ্রেয়। হাঁচির গতিবেগ ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ মাইল এবং হাঁচির সাথে প্রায় ১ লক্ষ জীবাণু প্রায় ২০ ফুট দুরুত্ব পর্যন্ত অতিক্রম করতে পারে। এজন্য হাঁচি আসলে নাক, মুখ ঢেকে হাঁচি দিতে হয়।