স্মার্টফোনের ব্যাটারী সেভার অ্যাপগুলো কতটা কার্যকরী?

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আমাদের স্মার্টফোনে বিভিন্ন ধরণের অ্যাপ থাকে, যার বেশিরভাগই প্রয়োজনীয়। আর প্রতিদিন আমাদের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে অ্যাপ-নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিনিয়ত অ্যাপ তৈরি করছে এবং আমরা তা আমাদের স্মার্টফোনে ব্যবহারও করছি। এতে করে আমাদের দৈনিক  স্মার্টফোন ব্যবহারের সময়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।  স্মার্টফোনে গেমস খেলা, সিনেমা দেখা ও ছবি তোলা সবক্ষেত্রেই ব্যাটারীর চার্জও কমতে থাকবে। এজন্য আমরা স্মার্টফোনের ব্যাটারীর আয়ু বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরণের অ্যাপও ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এই অ্যাপগুলো কতটা কার্যকর?

স্মার্টফোনের অ্যাপের গুণগতমান বিভিন্ন ধরণের হয়। কিছু সফটওয়ার কোম্পানি এমন অ্যাপ তৈরি করছে যার সাইজও ছোট আবার যেগুলো চালাতে স্মার্টফোনের র‌্যামেরও খুব প্রয়োজন হয় না। আবার কিছু অ্যাপ আছে যার আকারও বড় আবার স্মার্টফোনের জিপিএস, ওয়াইফাই, লোকেশন, সেলুলার ডাটা সবকিছুই একসাথে ব্যবহার করে। এতে করে স্মার্টফোনের ব্যাটারীর চার্জও বেশি ব্যবহার হতে থাকে।

এইসকল ক্ষেত্রে ব্যাটারী সেভার অ্যাপগুলো শুধুমাত্র কোন কোন অ্যাপ কি কি ব্যবহার করে চলছে তার একটা হিসাব নিয়ে আপনাকে একটা নির্দেশনা দিবে কিন্তু ব্যাটারী চার্জ সেইভ করতে কোন কাজে আসে না , বরং নিজে আরও ব্যাটারীর চার্জ কমাকে তরান্বিত করে।

এজন্য স্মার্টফোন নির্মাতা ও অপারেটিং সিস্টেম ডেভলপার প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাটারীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে তারা পাওয়ার সেভার মোড, আলো কমিয়ে রাখার ব্যবস্থা ও এয়ার প্লেন মোড এই সুবিধাগুলো সংযুক্ত করেছে। এই সুবিধাগুলো ব্যববহারের ফলে স্মার্টফোনের ব্যাটারীর আয়ু মিনিট থেকে বেড়ে ঘন্টায় গিয়ে পৌঁছায়।

এনরয়েড অপারেটিং সিস্টেমের এসময়কার আপডেটগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ফিচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যা আপনার স্মার্টফোনের অ্যাপগুলো সবসময় পর্যবেক্ষণ রাখবে। ব্যাটারীর চার্জের উপর নির্ভর করে কোন  অ্যাপ চালু থাকবে বা কোনটি হাইবারনেট অবস্থায় যাবে তা নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নিবে।

আপনি যে ব্যাটারী সেভার অ্যাপটি ব্যবহার করছেন এমনও হতে পারে সেটি আপনার স্মার্টফোনের গোপন তথ্য অথবা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে নিচ্ছে। অ্যাপস্টোরগুলোতে এরকম অনেক ফ্রি ব্যাটারী সেভার অ্যাপ পাওয়া যায়, যা আপনার স্মার্টফোনের কোন উপকার তো করেই না বরং ক্ষতি করে। সুতরাং ব্যাটারী সেভার অ্যাপ ব্যবহার না করে আপনার স্মার্টফোনের সেটিংস অপশন থেকেই ব্যাটারীর আয়ু বাড়ানোর ফিচারগুলো ব্যবহার করুন আর নিরাপদ থাকুন।