মহাশূন্যে জীবনযাপন

জীবনযাপন

নভোচারীদের মহাকাশযানে একটানা অনেকদিন অবস্থান নিয়ে কাজ করতে হয় আর মহাশূন্যের পরিবেশ পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এসময় তাদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হয়, টয়লেটে যেতে হয়,  খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করতে হয়,  শরীর স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নও নিতে হয়। ছোট একটা জায়গায় একসাথে অনেকগুলো মানুষকে থাকতে হয়। আমরা জানি যে, মহাশূন্যে ওজনহীনতার কারণে সবকিছু ভেসে বেড়ায়। এতে বেশ কষ্ট স্বীকার করে মহাকাশে জীবনযাপন করতে হয়। আসুন জেনে নেই, মহাশূন্যে নভোচারীরা কীভাবে জীবনযাপন করে।

ছবির কৃতিত্বঃ নাসা (আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ) ।

খাদ্য ও পানীয় গ্রহণঃ


মহাশূন্যে যেসকল খাদ্য পৃথিবী থেকে নিয়ে যাওয়া হয়, তার বেশিরভাগই প্যাকেটজাত খাবার। খাওয়ার আগে প্রয়োজনমত গরম অথবা ঠান্ডা পানি মিশিয়ে বা ওভেনে গরম করে নিতে হয়। ফলমূল, রুটি ও বাদাম যেমন আছে তেমনি খাওয়া যায়। পানীয় পান করার সময় ঢাকনাযুক্ত স্ট্র ব্যবহার করা হয় যাতে পানি পানি বাইরে না বের হতে পারে।

কাপড়ঃ


মহাকাশযানের ভিতর থাকলে নভোচারীদের স্বাভাবিক জামা-কাপড় পড়লেই চলে কারণ এর ভেতরের বায়ুচাপ পৃথিবীর সমান থাকে এবং তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। শুধুমাত্র মহাকাশযান চলার সময়  ও মহাকাশযানের বাইরে বের হলে বিশেষ ধরণের কাপড় পড়তে হয়।

মহাশূন্যে গোসল বা হাত ধোয়ার জন্য পানি ব্যবহার করা হয় না। অ্যালকোহল অথবা সাবানযুক্ত ভেজা তোয়ালে দিয়ে সবকিছু পরিষ্কার করা হয়। মাথার চুল ধোয়ার ক্ষেত্রে কোন পানি ব্যবহার করা হয় না, কারণ এতে প্রচুর ফেনা উৎপন্ন হবে। পরে শুকনো তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলা হয়।

ঘুমঃ


মহাশূন্যে ঘুমানোর জন্য ৬-৮ ঘন্টা বরাদ্দ রাখা হয়। ঘুমানোর আগে নিজেকে ঘুমানোর ব্যাগে নিজেকে হালকা করে বেঁধে নিতে হয়। এছাড়া আলো ও শব্দ থেকে দূরে থাকার জন্য আইমাস্ক ও ইয়ারপ্লাগেরও ব্যবস্থা আছে।


ছবির কৃতিত্বঃ নাসা (আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ) ।

দাঁত মাজাঃ


নভোচারীরা দাঁত মাজার সময় যতটা সম্ভব মুখ বন্ধ করে দাঁত মাজতে হয় কারণ মুখ খোলা থাকলে সকল ফেনা ভাসতে থাকবে। একারণে তারা এমন এক টুথপেস্ট ব্যবহার করে যেটা দাঁত মাজার পরে গিলে ফেলা যায় আর পানি ব্যবহারের পরিবর্তে ভেজা টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে ফেলা হয়।

পায়খানা করাঃ


মহাশূন্যে যেহেতু সবকিছু ভেসে বেড়ায়,  সেহেতু পায়খানা করার জন্য বিশেষ টয়লেট ব্যবহার করা হয় যেখানে নিজেকে ভালোভাবে টয়লেটের সাথে বেঁধে নিতে হয়। ফ্লাশের পরিবর্তে শোষণ টিউবের সাহায্যে মলগুলো টেনে নিয়ে একটি বাক্সে ফেলা হয়।

বিনোদনঃ


পৃথিবীর মতো মহাকাশেও বিনোদনের সুযোগ আছে। যে যেমনভাবে তাদের অবসর সময় কাটাতে চায়, তেমনভাবে কাটাতে পারে। বই পড়া, গান শোনা, সপ্তাহে একবার পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলা, সিনেমা দেখা, মহাশূন্যের সৌন্দর্য উপভোগ করে, ছবি তুলে সময় কাটাতে পারে।

ব্যায়ামঃ


পৃথিবীতে মানুষকে ঘুমানোর সময় ছাড়া অন্য সকল সময়ে মহাকর্ষীয় শক্তির বিরুদ্ধে পেশী ও হাড়ের  সাহায্য নিয়ে চলাচল করতে হয়। অন্যদিকে মহাশূন্যে সবসময় ভাসমান অবস্থায় থাকতে হয়, এতে করে হাড় ও পেশী দুর্বল হয়ে পড়ে। শরীর সুস্থ রাখার জন্য দিনে অন্তত দুই ঘন্টা ব্যায়াম করতে হয়।