প্রাণীজ চর্বি ক্ষতিকর নয় !

খাবার

Edit

আমরা সবাই স্বাস্থ্যসচেতন, বিশেষ করে অন্যের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে। অন্যকে স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের জুড়ি মেলা ভার। বিশেষ করে গরুর মাংসের কথা উঠলে তো কথাই নেই, একেকজন বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেন। গরুর মাংস কেনার সময় কোন অংশের মাংস কিনতে হবে, তার একটা পরামর্শ তো পাওয়া যাবেই। আর গরুর মাংসের চর্বি তো একেবারে বিষ, যা খেলে নির্ঘাত মৃত্যু হবে আর তা না হলেও হৃদরোগের ঝুকি, ডায়াবেটিকস আরও অনেক রোগ হতে পারে।  অন্যদিকে, শাক-সবজির ব্যাপারে সবাই একমত। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, প্রতি বেলায় মৌসুমী শাক-সবজি খেতে হবে। ওজন কমানোর বেলায় তো শাক-সবজি রাজা। কারণ শাক-সবজিতে কোন চর্বি নাই আর যেহেতু চর্বি নাই, তাহলে তো আর কোনও ভয়ও নাই। কিন্তু শাক-সবজিতেও চর্বি আছে। 

আমরা যে যত কিছুই জানি না কেন, চর্বির যে কিছু উপকারিতা আছে, তাও কিছুটা জানা উচিত। চর্বি যে শুধু আমাদের শরীরের শক্তির মূল যোগানদাতা হিসেবে কাজ করে তাই নয়, সাথে সাথে বিভিন্ন খাদ্য থেকে গৃহীত পুষ্টি শরীরে ধরে রাখতে সহায়তা করে। চর্বি শরীরের বিভিন্ন কোষতে সংকেত দিতে সাহায্য করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধে বিশাল ভূমিকা পালন করে।

আমরা সাধারণত প্রাণীজ ও উদ্ভিজ খাদ্যকে আলাদা করি স্যাচুরেটেড ফ্যাট শব্দ দিয়ে। প্রাণীজ খাদ্যে যে স্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে তা বর্জন করতে পরামর্শ পেয়ে থাকি আর কোলেস্টেরলমুক্ত উদ্ভিজ খাদ্য বিশেষ করে বীচি, বাদাম ও অলিভ খাওয়ার পরামর্শ পেয়ে থাকি। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছে ভিন্ন কথা। এইসকল উদ্ভিদে যে পরিমাণ পলি আন স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড আছে, তা আমাদের শরীর হজম করতে পারে না।

আমাদের মস্তিক্ষের  দুই-তৃতীয়াংশ অংশই চর্বি দ্বারা গঠিত। এর মধ্যে বিশ শতাংশই এক ধরণের ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড যা ডিএইচএ নামে পরিচিত। মস্তিষ্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকান্ডে এই  ডিএইচএ বিশেষ ভূমিকা পালন করে যা আমরা প্রাণীজ খাদ্য থেকেই পেয়ে থাকি। আরেকটি মজার তথ্য হলো উদ্ভিজ খাদ্যে কোন ডিএইচএ থাকে না। আরা রান্নার সময় সবাই বেজিটেবল তেল যেমন সয়াবিন বা সূর্যমূখী তেল ব্যবহার করে থাকি যা শরীরে ডিএইচএ এর কার্যকরিতা কমিয়ে দেয় বা বাধাগ্রস্ত করে। তবে একধরনের সামুদ্রিক অ্যালগির তেল আছে যা ডিএইচএ এর কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা কর। কিন্তু এই তেল সহজলভ্য তো না-ই, তারপরও ব্যয়বহূল।

যতদিন পর্যন্ত না কো বিকল্প বের না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত ভোজ্য তেলের ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণ কমাতে হবে এবং প্রাণীজ খাবার সম্পৃক্ত করতে হবে। একটা বিষয় তো পরিষ্কার যে, প্রাণীজ খাবারে ডিএইচএ আছে আর ডিএইচএ মস্তিষ্কের জন্য অপরিহার্য।



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।