নিষিদ্ধ পৃথিবী

অদ্ভুত দুনিয়া

পৃথিবীতে এমন কম জায়গায়ই আছে যেখানে মানুষের পদচিহ্ন পড়েনি। আমাজনের গভীর ও বিপদসঙ্কুল জঙ্গল, সমুদ্রের তলদেশ কিংবা মেরু অঞ্চলের বৈরী পরিবেশ কিছুই মানুষকে তার আবিষ্কারের কৌতুহল থেকে নিবৃত্ত করতে পারে নি। তবে এতে করে  মানুষ যেমন তার চারপাশে আধিপত্য বিস্তার করেছে পাশাপাশি ক্ষতি সাধনও কম করেনি, যা আমরা প্রতিনিয়ত টের পাচ্ছি।

আবার এমন কিছু স্থান আছে যেখানে মানুষের যাতায়াত সীমিত করা হয়েছে। স্বকীয় বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি ধরে রাখা, মানুষকে নিরাপদ রাখা বা জনসাধারণের কাছে গোপন রাখার জন্য এসব স্থানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়ে থাকে। যদিও সেকল জায়গা আহা মরি কিছু নয়, তারপরও নিষেধাজ্ঞার ফলে আপনি হয়ত সেখানে যেতে চেইবেন অথবা দূর থেকে হলেও জানতে চাইবেন। এমন নিষিদ্ধ সাতটি স্থান সম্পর্কে আপনাদের জানাব কিছুটা দুধের সাধ ঘুলে মিটানোর মতো।


১. সর্প দ্বীপ, ব্রাজিল:

গোল্ডেন লেঞ্চহ্যাড সাপ; স্থান: ইলহা কিমাদা গ্রানডে , ব্রাজিল।

ব্রাজিলের সাও পাওলো থেকে ৯৩(তিরানব্বই) কিলোমিটার দুরে অবস্থিত একটি ছোট দ্বীপ যার স্থানীয় নাম ইলহা কিমাদা গ্রানডে। এখানে প্রায় দু থেকে চার হাজার সোনালী রংয়ের একধরনের লেঞ্চহ্যাড সাপের বসতি। এই বিষধর সাপ মানুষকে কামড়ের সাথে সাথে কামড়ের চারপাশের মাংসপেশী খসে পড়ে আর মৃত্যু হয়। সর্প দ্বীপটিতে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ কিন্তু আপনি যদি সাপ বিষয়ক গবেষক হয়ে থাকেন বা হবার চেষ্টা করছেন তাহলে আপনি সেখানে যাওয়ার অনুমতি পেতে পারেন।


২. লসকো গুহা, ফান্স:

‘হল অব বুলস’ নামক একটি চিত্রকর্ম আছে যার মধ্যে একটি ষাড়ের(বাইসন) চিত্র  ১৭ (সতের) ফুট লম্বা। স্থান: দক্ষিন-পশ্চিম ফ্রান্স।

ফান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে অবস্থিত এই গুহায় প্রাগৌতিহাসিক কালের কিছু মনোমুগ্ধকর শিল্পকর্মের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রায় ২০,০০০ (বিশহাজার) বছর পুরানো এই গুহা চিত্রে বাইসন, আইবেক্স, হরিন ও গবাদি পশু সহ অন্যান্য আরো অনেক রকমের ছবি দেখা যায়। গুহাটিতে চারটি ষাড়ের ছবি সম্বলিত ‘হল অব বুলস’ নামে একটি চিত্রকর্ম আছে যার মধ্যে একটি ষাড়ের চিত্র  ১৭ (সতের) ফুট লম্বা। মানুষের হাত থেকে বাচাঁনোর জন্য এবং ছাতা পড়া থেকে রক্ষা করার জন্য ১৯৬০ সালে গুহাটি সর্বসাধারণের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে গুহার কাছাকাছি এলাকায় একটি জাদুঘর ও গুহার প্রতিলিপি স্থাপন করা হয়েছে যা দেখে আপনি একটি ধারণা নিতে পারবেন।


৩. এরিয়া ৫১, যুক্তরাষ্ট্র:

এরিয়া ৫১, স্থান: নাভাদা মরুভূমি, যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্টে্রর নাভাদা মরুভূমিতে অবস্থিত একটি সুরক্ষিত ও লুকানো সামরিক স্থাপনা হলো এরিয়া ৫১, যার কর্মকান্ড সাধারণ মানুষের অজানা। সবচেয়ে প্রচলিত ধারণা হলো, এখানে ভীন গ্রহের প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা করা হয় যদিও কারও কাছে এ সংক্রান্ত প্রমাণ নেই। এরিয়া ৫১ -কে বিভিন্ন ধরনের ভূমি মাইন ও উচ্চ প্রযুক্তি যন্ত্রাদি দিয়ে অভেদ্য করে রাখা হয়েছে।


৪. উত্তর স্যানটিনেল দ্বীপ:

উত্তর স্যানটিনেল দ্বীপ; স্থান: ভারত।

বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত ভারতের একটি আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা হলো উত্তর স্যানটিনেল দ্বীপ। প্রায় ৬০,০০০ (ষাট হাজার) বছর ধরে বসবাসরত স্যানটিনলিজ জাতিগোষ্ঠী বাইরের পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ করতে চায় না বা কেউ করতে চাইলে তাকে হত্যা করে ফেলে। এই জন্য ভারত সরকার উত্তর স্যানটিনেল দ্বীপে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।


৫. পভেইয়া, ইতালি:

ভেনিস ও লিডো এর মাঝে এই ছোট্ট দ্বীপটির নাম পভেইয়া; স্থান: উত্তর ইতালি।

১৪শ (চৌদ্দশ) শতাব্দীতে উত্তর ইতালির ভেনিস ও লিডো এর মাঝে এই ছোট্ট দ্বীপটিতে প্লেগে আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে রাখা হতো। ১৯শ (উনিশশ) শতাব্দীতে এখানে উন্মাদ রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হতো। কথিত আছে, এখানে ডাক্তাররা পরীক্ষার নামে রোগীদের বিভিন্ন ধরনের কষ্টকর শাস্তি দিত। এই দ্বীপটিতে এখন কোন জনবসতি নেই। পরিত্যক্ত দ্বীপটিতে খারাপ আত্মারা ঘুরে ফিরে বেড়ায় বলে লোকমুখে শোনা যায়। আপনি যদি নিজেকে সাহসী ভেবে থাকেন তাহলে বিভিন্ন কাগজপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন।


৬. ভ্যাটিকান গোপন মহাফেজখানা, ভ্যাটিকান সিটি:

ভ্যাটিকান গোপন মহাফেজখানা; স্থান: ভ্যাটিকান সিটি ।

ভ্যাটিকান গোপন মহাফেজখানায় প্রাচীন খ্রিস্টান ক্যাথলিক ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি, হিসাব-নিকাশের কাগজপত্র, কিছু গোপনীয় সত্যের প্রমাণক আছে। ধারণা করা হয়, এখানে ভীনগ্রহের প্রাণী ও দানবের অস্তিত্বের প্রমাণ, ২০শ(বিংশ) শতাব্দীতে বিভিন্ন ফ্যাসিস্ট সরকারকে ভ্যাটিকান সিটির মদদ দানের দলিলাদি আছে। শুধুমাত্র পৃথিবীর মানসম্মত ও পরীক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিদের এখানে প্রবেশাধিকার আছে।


৭. সিন শি হোয়াং এর সমাধি, চীন:

সম্রাট সিন শি হোয়াং সমাধিক্ষেত্র; স্থান: চীন।

চীনের প্রথম সম্রাট সিন শি হোয়াং সমাধিক্ষেত্রে প্রায় ২,০০০(দুই হাজার) পোড়ামাটির সৈন্য আছে। কথিত আছে, সমাধিক্ষেত্রের তলদেশে বহু মূল্যবান রত্নভান্ডার আছে বলে এই মূল্যবান সম্পদ রক্ষার জন্য ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে এবং তলদেশের গুহায় আরো ৬,০০০(ছয় হাজার) পোড়ামাটির সৈন্য আছে বলে ধারণা করা হয়। তবে আসল কথা হলো, সেখানে উচ্চমাত্রার পারদ থাকার ফলে সেখানে প্রয়োজনীয় সরজ্ঞামাদি ছাড়া প্রবেশ করার ঝুঁকি আছে। মূলত মূল্যবান সম্পদ রক্ষার জন্য এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চীনের প্রথম সম্রাট সিন শি হোয়াং সমাধিক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ।

সূত্র: http://www.relocationtarget.com