ইতিহাস হাসে

ইতিহাস ও সংস্কৃতি

ইতিহাস মানেই যে কেবল সাল, দিন-তারিখ, যুগ-কালের হিসাব তা কিন্তু না, ইতিহাসে এমন কিছু মজার ঘটনা বা চরিত্র আছে যেগুলো আমাদের মনে বিনোদনের খোরাক হতে পারে। এরকম কিছু ঘটনা নিয়ে আজকে বলবো।

বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন (Benjamin Franklin):

বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন (Benjamin Franklin) তাঁর রসিকতা ও বিদ্রুপাত্মক লেখনীর জন্য সর্বজনের কাছে পরিচিত ছিলেন। জন এডামস, রজার শারম্যান, টমাস জেফারসন, রবার্ট লিভিংস্টোন যুক্তরাষ্ট্রের

“স্বাধীনতাপত্রের ঘোষণা” খসড়া তৈরি করার সময়ে বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন তাঁদের সাথে থাকুক সেটা কেউই চাচ্ছিলেন না কারণ তাঁদের ধারণা ছিল এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ দলিল লেখার ক্ষেত্রে সকলেরই গম্ভীর চিত্তের হওয়া উচিত। যদিও শেষ পর্যন্ত এই ঐতিহাসিক দলিল প্রনয়ণে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পেরেছিলেন।


 রবার্ট লিসটন (Robert Liston):

 ১৯ শতকের চিকিৎসক রবার্ট লিসটন (Robert Liston) বিখ্যাত হয়েছিলেন দ্রুততম সময়ে অস্ত্রোপাচার সম্পন্ন করার কারণে। প্রতিটি অস্ত্রোপাচারে তিনি সময় নিতেন সর্বোচ্চ ৩০ সেকেন্ড।

একদিন এক রোগীর অঙ্গচ্ছেদ করার সময় তিনি তার সহকারীর একটি আঙ্গুল কেটে ফেলেছিলেন। সেই অস্ত্রোপাচারে তিনি সময় নিয়েছিলেন মাত্র ২৫ সেকেন্ড। দ্রুত অস্ত্রোপাচার করলেও তার রোগীদের মৃত্যুহার কম ছিল।


নেপোলিয়ন বোনাপার্টের (Napoléon Bonaparte):

নেপোলিয়ন বোনাপার্টের (Napoléon Bonaparte) মৃত্যুর পর ১৭ জন্ সাক্ষীর সামনে তার ব্যক্তিগত ডাক্তার ফ্রান্সেকো অটোমার্চি ময়নাতদন্তের সময় ভুলবশতঃ যৌনাঙ্গটি কেটে ফেলে।

পরে সেটা ধর্মযাজক ভিগনালির পরিবারের হাত থেকে ১৯২৪ সালে দুর্লভ বই সংগ্রাহক রোজেনবাকের কাছে আসে। পরে ১৯২৭ সালে তিনি সেটা নিউইয়র্কের মিউজিয়াম অব ফ্রেঞ্চ আর্ট- এ প্রদর্শনীর জন্য দেন।


ফিদেল ক্রাস্তো (Fidel Castro):

কিউবার অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল ক্রাস্তো (Fidel Castro) দুগ্ধজাত খাবার ও পানীয় খেতে পছন্দ করতেন। এইজন্য তিনি একটি আইসক্রিমের দোকান দেন এবং সেটা এখনও চালু আছে। 

তিনি দুটি উন্নতমানের গরুর মধ্যে সংকরায়ন করে একটি নতুন জাতের গরু উৎপাদন করেন যেটা অত্যাধিক গরম সহ্য করতে পারে আবার বেশি পরিমাণে দুধও দিতে সক্ষম।


 পিথাগোরাস (Pythagoras) :

গ্রিক দার্শনিক পিথাগোরাস (Pythagoras) গণিতের গুরুত্বপূর্ণ পিথাগোরিনিসম তত্ত্ব আবিষ্কার করেছিলেন।  তাঁর সিম সবজির প্রতি ভীতি ছিল।

ধারণা করা হয়ে থাকে যে, সিমের প্রতি ভয়ই তাঁর মৃত্যুর কারণ ছিল। শত্রুরা তাঁকে তাঁড়া করলে তিনি সিম ক্ষেতের সামনে এসে পড়েন। তিনি সিম ক্ষেতের ভিতরে লুকোতে আগ্রহী হননি এবং সেখানেই তাঁকে হত্যা করা হয়।


ইস্কাইলাস (Aeschylus):

বিখ্যাত গ্রীক নাট্যকার ইস্কাইলাস (Aeschylus) তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে ভবিষ্যত বানী শুনছিলেন যে, তিনি উপর থেকে পড়ন্ত বস্তুর আঘাতে মারা যাবেন। এ কারণে তিনি শহরের বাইরে থাকা শুরু করেছিলেন।

কিন্তু আনুমানিক খৃষ্টপূর্ব ৪৫৬ বা ৪৫৫ অব্দে তিনি সিসিলির গেলা শহর ভ্রমনে গেলে তাঁর উপর দিয়ে একটি ঈগল কচ্ছপ শিকার করে উড়ে যাওয়ার সময় কচ্ছপটি তার মাথার পড়ে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।


 এডলফ হিটলারের (Adolf Hitler):

এডলফ হিটলারের (Adolf Hitler) সম্পর্কে দুর্গন্ধযুক্ত বায়ু ত্যাগের কথা জানা যায়, একারণে খাবার টেবিলে আগত অতিথিদের খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতো।

মূলত তার খাদ্যাভ্যাস ও পেটের অসুখের কারণে এরকম হতো বলে ধারণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তথ্য মতে, হিটলার তার এই সমস্যার কারণে প্রতিদিন প্রায় ২৮টি বিভিন্ন ধরণের ঔষুধ সেবন করতেন।


থমাস জেফারসন (Thomas Jefferson):

থমাস জেফারসন (Thomas Jefferson)আমেরিকার ৩য় রাষ্ট্রপতি ও “স্বাধীনতাপত্রের ঘোষণা” অন্যতম প্রণেতা ,

যিনি ফ্রান্সের প্যারিসে একজন যুবতীর মনোযোগ আকর্ষণের জন্য বেড়ার উপর দিয়ে লাফাতে গিয়ে তাঁর হাতের কব্জি ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। চিকিৎসক হাড় জোড়া লাগিয়ে দিলেও সে সারাজীবন হাত নিয়ে ভুগেছেন যদিও এই হাত দিয়ে তিনি অনেক জনপ্রিয় রোমান্টিক কবিতা লিখেছিলেন।


লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির (Leonardo da Vinci):

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির (Leonardo da Vinci) মৃত্যুর পর তাঁর বিখ্যাত চিত্রকর্ম “মোনালিসা” ফান্সের রাজা ফ্রান্সিসের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রাজা সেই চিত্রকর্মটি তার প্রাসাদের এমন একটি জায়গায় স্থাপন করতে চাইলেন যেন সারা ইউরোপ থেকে আগত অতিথিবৃন্দ সেটা দেখতে পারে। তিনি অনেক চিন্তা ভাবনা করে সেটা গোসলখানার দেয়ালে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। বলা হয়ে থাকে, ফ্রান্সের ল্যুভর মিউজিয়াম গড়ে উঠেছিল এই গোসলখানায় কারণ রাজা ফ্রান্সিস তাঁর পছন্দের চিত্রকর্মগুলো এখানে এনে স্থাপন করতেন।


বেনিতো মুসুলিনি (Benito Mussolini):

ইতালির ফ্যাসিস্ট নেতা বেনিতো মুসুলিনি (Benito Mussolini) একটি কাল্পনিক ঐতিহাসিক প্রেমের উপন্যাস রচনা করেছিলেন।

যার নাম দিয়েছিলেন “কার্ডিনালস মিসট্রেস” এবং উপন্যাসটি এর নামের মতোই খারাপ ছিল। এটা ভাবতে মজাই লাঘে যে কিনা ফ্যাসিবাদের জনক সে কিনা এরকম রোমান্টিক উপন্যাস লেখার সাহস করে।